Uncategorized

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আহবান নুরের

বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বাদ দিলেও স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে লেখাপড়ার বাহিরে। তারা মানসিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ থাকে না। তাই আর একদিনও দেরি না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

বুধবার বিকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে হল খুলে পরীক্ষা নেয়া, করোনাকালীন সময়ে ভর্তি ফি ও উন্নয়ন ফি বাতিল এবং শিক্ষাঙ্গনে বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলার’ দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের এক ছাত্র সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, হাট-বাজার লঞ্চঘাট অফিস-আদালত সবকিছুই খোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সমস্যা কোথায়? করোনার শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়ে কাজ করা হয়েছে তখন একটা যুক্তি ছিলো কিন্তু এখন সব পুরোদমে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার সাথে ছাত্রলীগ ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের পরিষদ প্রগতিশীল ছাত্রজোট সবাই একমত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ দাবি উপেক্ষা করতে পারে না।

নুর বলেন, বিভিন্ন দেশে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। সংক্রমণের হার বিবেচনা করে কখনো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদ কমিয়ে আনতে হবে। পাঁচ দিনের পরিবর্তে সেটা তিনদিন করে দেয়া যেতে পারে। একই বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিফটে ভাগ করে ক্লাস নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রম আর একটা দিনের জন্য বন্ধ রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এর কথা বলা হচ্ছে। পত্রিকায় নিউজ করছে শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্কের জন্য গাছে উঠেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা এখন পর্যন্ত আমরা সারাদেশে নিশ্চিত করতে পারি নাই। এখন পর্যন্ত সেই অবকাঠামো আমরা শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে পারি নাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে শিক্ষার্থীদের ডিভাইস দেয়া হবে, ইউজিসি বলেছে শিক্ষার্থীদেরকে টাকা দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে বলতে শুনলাম না যে একটি ডিভাইস পেয়েছে। বরং প্রত্যন্ত অঞ্চল বা পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের আক্ষেপ করতে শুনেছি তারা বলেছে ক্লাস করতে পারছি না আমরা কি করতে পারি।

রাজু ভাস্কর্যের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে প্রক্টরের কথার সমালোচনা করে বলেন, আমাদের প্রক্টর স্যার অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ‘দুই-তিনজন পার্টি নিয়ে বসে গেলো আন্দোলন হয়ে গেলো’। কি ধরনের নিম্ন রুচির পরিচয় একজন শিক্ষকের, ছি! একজন প্রক্টর কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না।

উপাচার্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উপাচার্য হয়েও ছাত্রদের নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অমানবিক। কোটা আন্দোলনের সময় এই ভিসি আমাদেরকে রাজাকারদের সাথে তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

টিএসসি ভাঙ্গা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম, টিএসসির যে স্বাতন্ত্র্য একটি কাঠামো রয়েছে সেটিকে অক্ষুণ্ণ রেখে যাতে টিএসসির উন্নয়ন করা হয়। পরমাণু শক্তি কমিশন ওখান থেকে চলে যাবে। সেটিকে টিএসসির মধ্যে যুক্ত করলে টিএসসি আরো বড় হবে। যাই করা হোক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলবো প্রত্যেক স্টেকহোল্ডার ছাত্র-শিক্ষক সবার মতামত নিয়ে যেনো করা হয়।

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হাসান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মধ্যবিত্ত ও গরিব শিক্ষার্থীর কথা না ভেবে একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার যা বলছে তারা তাই শুনছে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। রাজনৈতিক আদর্শ যার যাই হোক হল খুলে দেয়ার এ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপান্তর করার আহবান জানান তিনি।

সংগঠনটির আহবান রাশেদ খান বলেন, মা ভিক্ষা করে হলেও তার সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেয় কিন্তু আমাদের অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে তা আমার জানা নেই।

ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ, নাগরিক ছাত্র ঐক্য সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button