Uncategorized
Trending

দীর্ঘ পাঁচ বছর রিলেশনের পর আজকে শহীদের

দীর্ঘ পাঁচ বছর রিলেশনের পর আজকে শহীদের এনগেজমেন্ট। শহীদের জন্যে এটা অনেক খুশির দিন। সুহির মত মেয়ে পাওয়া আসলেই ভাগ্যের বেপার। সবদিক থেকেই ভাল মেয়েটা। ধনী ঘরের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও অহংকারের ছিটেফোঁটা নেই তার মাঝে। চটপটে ও দুরন্ত মেয়ে, ঘরের সব কাজ, রান্না বান্না, সবই পারে। মাঝে মাঝে শহীদ ভাবে, কি দেখে এই মেয়ে যে তার প্রেমে পড়েছিল! তাদের প্রেম হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। ভুল নম্বরে ১০০ টাকা লোড দিয়েছিল সুহি। পরে কল করে টাকা ফেরত চায় সে। ১০০টাকা তখন শহীদের জন্যে ছিল অনেক টাকা। তাই সে বলে, ঠিক আছে, আমি টাকা ফেরত দেব, কিন্তু কিস্তি তে। একবারে এত টাকা দেয়া আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। তিন দিন পর পর ২০ টাকা করে সে পুরো টাকাই দিয়ে দেয়। শহীদের এই সততা দেখেই তার প্রেমে পড়ে যায় সুহি। ১০০ টাকার পুরোটাই সে শহীদের সাথে কথা বলে। সেখান থেকেই প্রেম। অবশ্য অন্যসব বাবাদের মত সুহির বাবাও প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু আদরের মেয়ের জিদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে তাকে। সুহি প্রমাণ করে দিয়েছে যে শহীদ তাকে ভালবাসে, তার টাকাকে নয়। সত্যি কথা বলতে শহীদের এই সততা সুহির বাবাকেও মুগ্ধ করেছে।

 

সবাই চলে এসেছে সুহির বাসায়। আর একটু পরেই আংটি পড়ানো হবে। সুহির সামনের সোফায় বসে একটানা সুহির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে পুরাতন দিনের কথা ভাবছে শহীদ, সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও করছে । হঠাৎ করেই শহীদ সুহির বাবাকে বলল, তাহলে দেনাপাওনার ব্যাপারটা হয়ে যাক? এই কথা শুনে সবাই খুব অবাক! সুহি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে, তবে কি সে শহীদকে ভুল চিনল? সুহির বাবা রেগে গিয়ে শহীদকে বের হয়ে যেতে বললেন। তবে সবথেকে বেশি অবাক শহীদের বাবা। তিনি নিজের ছেলেকে কি এই শিক্ষা দিয়েছেন! হ্যা, তাদের সংসারে অভাব ছিল, আছে, তবু কখনও কারো কাছে হাত পাতেন নি তিনি। শহীদ বর্তমানে ভাল একটা চাকরি পাওয়ায় সেই সমস্যাও ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যাচ্ছে। হিসেবি ছেলে শহীদ, তাই অতিরিক্ত কোন খরচও নেই তার। লোভী সে কখনোই ছিল না। তবে আজ হঠাৎ করে তার মুখে এই কথা কেন?

 

যেখানে সবাই উদ্বিগ্ন, সেখানে একমাত্র খুশি হয়েছেন পাশের বাসার আন্টি। তিনি তার ফুফাতো ননদের চাচাতো ভাইয়ের কলিগের ছেলে পাত্রী হিসেবে মনে মনে সুহিকে ঠিক করে রেখেছিলেন। সেই সংবাদই জানাতে এসেছিলেন, কিন্তু এসে দেখেন এই অবস্থা। প্রথমে বিরক্ত হলেও এখন খুব কষ্টে নিজের হাসিটা চেপে রেখেছেন তিনি। আগুনে ঘি ঢালার জন্যে তিনি বললেন, আহা, আজকালকের ছেলেরা এমনই হয়। বড়লোকের মেয়ে পটিয়ে তাদের সম্পত্তি হাত করার ধান্দায় থাকে সব ছেলেরা। অবশ্য আমার ফুফাতো ননদের চাচাতো ভাইয়ের বন্ধুর ছেলে একদম সবার থেকে আলাদা। তাদের অনেক সম্পত্তি, মানুষের সম্পত্তির দিকে তার একটুও নজর নেই। বিয়ের জন্যে পাত্রী খুজছে। এত বড়লোক, রাস্তা থেকে ধরে এনে যাকে তাকে তো আর বিয়ে করবে না! সুহির মত কাউকে পেলে তবেই বিয়ে করবে।

 

অবশেষে সুহির মুখে কথা ফুটল, শহীদকে জিজ্ঞেস করল, ছিঃ শহীদ, এই ছিল তোমার মনে? তোমাকে আমি ভালবেসেছিলাম! এই দাম দিলে তুমি আমার ভালবাসার? কতটাকা চাই তোমার? কত টাকার জন্যে তুমি আমার সাথে ভালবাসার এই খেলা খেললে? শহীদ উত্তর দিল, সুহি, তুমি জানো টাকার প্রতি আমার কখনো লোভ ছিল না। সুহিঃ তাহলে? শহীদ সুহির বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখুন, আপনার মেয়ের সব খরচ আমি বহন করব, যা কিছুই হোক, না খেয়ে থাকব তবু আপনার কাছে কখনো হাত পাতব বা। কিন্তু আপনার মেয়ের ফোনে কথা বলার খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে।

#যৌতুক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button