Uncategorized
Trending

জীবনের প্রথম প্রেম করেছিলাম ক্লাস ফো’রে

জীবনের প্রথম প্রেম করেছিলাম ক্লাস ফো’রে

Md Ahmed

থাকতে; মেয়েটির নাম নীলা; চুয়িংগামের স্টিকারের লোভ দেখিয়ে পটিয়ে ফেলেছিলাম তাকে সেদিন; প্রেম চলতেছিলো আমাদের; খাতায় একজনের ছবি একজনে আঁকতাম; এমনকি কয়েকটি বেন্সে S+N লিখেও দিয়েছিলাম; এভাবে চলতেছিলো আমাদের ভালোবাসা আমার প্রথম প্রেম; একদিন সে টিফিনের বিরতিতে পিঁয়াজু খাচ্ছিলো একা একা অার আমি গিয়ে ওর কাছে পিঁয়াজু খুঁজেছিলাম কিন্তু সে আমাকে সেদিন পিঁয়াজু দেয়নি; প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে নীলার সাথে ব্রেকঅাপ করেছিলাম সেদিন আমি;

গত দুইবছর আগে তার বিয়ে হয়েছে; অবশ্য বিয়েতে দাওয়াতও দিয়েছিলো আমাকে! জামাই পাইলট; আমার জানামতে এই দুই বছরে এমন কোন দেশ নেই’যে নীলা যায়নি; অনেক সুখে অাছে; তবে আমি ওর সুখ দেখে হিংসে করি এতো কিপটা একটা মেয়ে যে কিনা বয়ফ্রেন্ডরে একটা পিয়াজু দেয়নি সে এতো সুখের লাইফ ডিজার্ব করেনা মোটেও!

নীলার সাথে ব্রেকঅাপের পর কয়েকবছর নিজেকে অার রিলেশনে জাড়াইনি; একেবারে ক্লাস সেভেনে গিয়ে সুন্দরী রূপার সাথে প্রেম হয় আমার; রূপা অসাধারণ এক সুন্দরী মেয়ে অনেক কষ্টে পটিয়েছিলাম; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বারবার কষ্ট পাই আমি; একই স্কুলে ক্লাস টেনে থাকা তার বড় ভাই বিষয়টা জানতে পারলে আমাকে স্কুল ছুটির পর এক’শ একবার উঠবস দেয়ার পর ছেড়েছিলো; সেদিন বুঝেছিলাম এই প্রেমিকার বড়ভাইগুলা খুব মারাত্মক হয়! রূপার বড় ভাইয়ের মাইরের ভয়ে পরে তার সাথেও আমার ব্রেকঅাপ হয়ে যায়; তারও বিয়ে হয়ে গেছে; শুনেছি তার স্বামি বিসিএস ক্যাডার; বিসিএস ক্যাডার হলেও দেখতে আমার মতো’তো আর হ্যান্ডসাম না;

খুব ডিপ্রেশনে পড়ে গেছিলাম আমি; সিগরেট খাওয়ার সাহস ছিলোনা বলে কাগজের সিগারেট বানিয়ে খেয়েছিলাম কয়েকবার তবুও ডিপ্রেশন কাটেনি; রূপাকে ভুলতে নানুর বাড়ি বেড়াতে চলে গেছিলাম কয়েকদিনের জন্য; সেখানে পরিচিত হই তন্নির সাথে; তন্নিরা নানুর বাড়ির পাশে’ই ভাড়া থাকতো; নানুদের সাথে তাদের খুব ভালো সম্পর্ক; অমায়িক চেহেরার তন্নিকে প্রথম দেখায় পূর্বের সব প্রেম হতাশা যন্ত্রণা ভুলে গেছিলাম আমি; হয়তো ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাকে; তাই অল্প কয়েকদিন পর পর নানুর বাড়িতে চলে যেতাম অামি তাকে দেখার জন্য! হঠাৎ একদিন নানুর বাড়ি গিয়ে জানতে পারলাম তন্নির বাবার ট্রেন্সপার হওয়ার কারণে তারা বাসা ছেড়ে দিয়ে ঢাকা চলে গেছে; খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি! তন্নির জন্য কেঁদেছিলাম দুয়েকরাত! হয়তো তন্নিও অামার জন্য কাঁদবে! বড় হয়ে বাপ-মাকে রেখে চলে অাসবে আমার কাছে; অামিও সারাজীবন তন্নির জন্য অপেক্ষা করব; নিজেকে রিলেশনে জড়াবো না কোনদিন; এসব ভাবতে লাগলাম!

ক্লাস এইটে কোনরকম পাশ করে নাইনে ভর্তি হয়েছিলাম; অন্য স্কুল থেকে নতুন ভর্তি হওয়া একটি মেয়ে একা একটি বেন্সে বসে অাছে; লম্বা চুল বিনি করা ফর্সা চেহেরার মেয়েটির নাম জেমি; প্রতিদিন স্কুলে পিছনের বেন্সে বসে বসে তাকে দেখতাম; সে একদিন স্কুলে না গেলে পেঠ মোচড় দিয়ে উঠতো; তবে কি তার প্রেমে পড়ে গেছি আমি-? না! আমার জীবনে তন্নি ছাড়া কেউ থাকবেনা কথা দিয়েছিলাম নিজেকে; কিন্তু কেনো যেনো আমি নিজেকে দেয়া কথা কোনদিনও রাখতে পারিনা; সেদিনও পারিনি; একটা কাগজে মনের কথা লিখে স্কুল ছুটির পর জেমির হাতে দিয়েছিলাম; পরেরদিন পত্রের মাধ্যেমে জেমির জবাব অাসলো; সে রাজী হয়েছে! সে লিখেছে তার ১৪ বছরের জীবনে আমার মতো সুদর্শন কিশোর সে কোনদিন দেখেনি; সারাজীবন আমার সাথে কাটাতে সে অাগ্রহী!

একদিন তার সাথে স্কুলের পিছনে কথা বলতেছিলাম; সেদিন খুব সাহস করে তার হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলাম; না জানি কেনো সেদিন জেমিকে অন্যদিনের তুলনায় বেশি সুন্দরী মনে হচ্ছিলো; একটা কিস করার ইচ্ছে খুব জোরালোভাবে আমার মস্তিষ্কে চেপেছিলো; তাই কাছে টেনে জেমিকে কিস করতে চাইলাম জেমি মানা করেনি মনে হয় তার মস্তিষ্কেও চেপেছিলো কিস করার প্রবল ইচ্ছা; তাকে চুমু খাওয়ার মূহুর্তে কে জেনো অামার স্কুল ড্রেসের কলার ধরে টান দিলো; চমকে গিয়ে চোখ ফেরাতেই দেখতে পেলাম ক্লাসের ইংরেজি স্যার মার্সাল স্যার; সেদিন অাচ্ছামত থাব্রানি খেয়েছিলাম স্যারের; বিষয়টা ক্লাসের কয়েকটা ছেলে-মেয়ে জেনে যাওয়ার পর জেমির বাড়িতে চলে যায় খবরটা; পরে জেমিকে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়; অামি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম; খুব রাগও হয়েছিলো মার্সাল স্যারের উপর; ব্যাটা কিসটাও ভালো মতো করতে দেয়নি সেদিন! সেদিনের পর থেকে তার সাথে অার দেখা হয়নি!

তিনবছর অাগে শুনেছিলাম জেমির বিয়ে হয়ে গেছে জামাই নামকরা ডাক্তার; নিজস্ব কোম্পানিও অাছে শুনলাম; মাসে কমপক্ষে দুই-অাড়াই লাখ টাকা ইনকাম করতে পারে অনায়াসে; শুনে কিছুটা কষ্ট পেলেও খুশি হয়েছিলাম চেয়েছিলাম মেয়েটা সুখে থাকুক!

জেমি চলে যাওয়ার পর থেকে নিজেকে খুব একা একা লাগতেছিলে; ধারণা করেছিলাম জীবনে প্রেম স্বার্থক হবেনা কোনদিন আমার; জেমি,তন্নি,রূপা,নীলা’দের শোক কাটিয়ে পড়ালেখায় মন দিলাম; এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম! প্রথম প্রথম কলেজে গিয়ে প্রচন্ড ভালো লাগা কাজ করতেছিলো মনে; কলেজে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে মোবাইলও কিনে দিয়েছিলো; ক্লাসে গেলেই সবার অাগে চোখ পরে তমা’র উপর; ছটপটে স্বভাবের মেধাবী লম্বা ফিগারের শ্যামলা কাজল চোখের তমা রূপে গুনে ক্লাসের অন্য সব মেয়েদের থেকে এগিয়ে; সবাই তাকে পছন্দ করতো; তার দিকে তাকালে সমস্ত কিছু যেনো কিছুক্ষণের জন্য থেমে থেমে যায়; যেকোন ছেলে তার প্রেমে পরতে বাধ্য; আমিও’তো ছেলে! একজন সুদর্শন হ্যান্ডসাম ছেলে; অামিও তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম! ক্লাসের অনেকে ব্যাপারটা লক্ষ করে নিজেরা নিজেরা বলাবলি করতো ” সাগর অার তমা’র জুটি সেরা হবে একদম ফিল্মের নায়ক-নায়িকার মতো লাগবে তাদের দুজনকে একসাথে;

অনেকদিনের জমানো থাকার পর একদিন সাহস করে তমাকে মনের কথা জানিয়ে দিয়েছিলাম; সে জবাব দেয়নি একটা মৃদু হেসে চলে গেছিলো সামনে থেকে; মেয়েরা কোন প্রশ্নের উত্তর যখন হেসে দেয় তখন বুঝতে হবে ব্যাপারটা অবশ্যই পজিটিভ; আমাদের ব্যাপারটাও পজিটিভ ছিলো তমা রাজী হয়েছিলো! দীর্ঘরাত মোবাইলে কথা বলতাম; ক্লাসে একসাথে বসে থাকা ক্যান্টিনে সিঙাড়া খাওয়া থেকে ঝালমুড়ি খাওয়া; খুব সুন্দরভাবেই চলতেছিলো আমাদের প্রেম!

আমরা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে উঠলেও আমাদের প্রেম ঠিকেছিলো; কলেজ শীতকালীন বন্ধ দিয়েছিলো দীর্ঘদিন; হঠাৎ একদিন তমা অামাকে ফোন দিয়ে বলে বাসায় তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে; আমি তখন সিঙাড়া খাচ্ছিলাম সস দিয়ে; মুহুর্তেই সিঙাড়ার স্বাদ পরিবর্তন হয়ে গেলো; হাত থেকে অাধখাওয়া সিঙাড়া রেখে দিলাম প্লেটে; তমা নরম গলায় বললো জামাই নাকি প্রবাসী অস্ট্রেলিয়া থাকে; স্বামী বিদেশ শুনে হাসিমুখে প্লেট থেকে সিঙাড়াটা হাতে নিলাম; কিন্তু তমা বলল বিয়ের পর তাকেও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে জামাইর সাথে; জানতে চাইলাম তমার কাছে সে বিয়েতে রাজী হয়েছে কিনা- এবার তমা মৃদু হেসে বললো- “তোমাকে বিয়ের দাওয়াত দিতেই তো ফোন করেছি অামি পাগল; অমুক তারিখ ঠিক সময়ে বিয়েতে চলে অাসিও গিফট অানতে হবেনা বলে লাইন কেটে অামার নাম্বারটা ব্লক করে দিলো তমা; তারকথা শুনে মনে হয়েছিলো সে স্বর্গীয় নিশ্চিত সুখের অপেক্ষায় দিন গুনছে; কখন বিয়ে হবে কখন সে জামাইর সাথে অস্ট্রেলিয়া যাবে” এই টাইপের চিন্তাভাবনা!

তমা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভুলে গেছিলাম অামি; ২০১৭ সালে ইন্টার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলাম; অনার্সে এসে সিঙেল থাকা মানে বয়সকে অপমান করার সমান; তাই সিদ্ধান্ত নিলাম অাবার প্রেম করব; শেষবারের মতো কাউকে ভালোবেসে কাঙাল হয়ে যাবো; কাঠ পুড়ে যেমন কয়লা হয়ে যায় ঠিক তেমন ভাবে অামি পুড়ে কয়লা না হয়ে একদম ছাই হয়ে যাবো;

সোহানা’কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম গোপনে কিন্তু সে রাজী হয়নি; সোহানা অামার জুনিয়র ইন্টারে পড়ে; কলেজে ভর্তির সময় তাকে সাহায্য করেছিলাম সেই হিসেবে পরিচিত; অবশ্য অনেক মেয়েকেই সাহায্য করি অামি কলেজে ভর্তির সময় কেউ মনে রাখে কেউ রাখেনা; মেয়েদের একটা বিরাট অাপত্তিকর স্বভাব হচ্ছে’যে যারা ভালোবাসে এবং উপকার করে তাদের সহজেই ভুলে যেতে পারে তারা! কিন্তু সোহানা আমাকে মনে রেখেছিলো; হয়তো সে আমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলো! তাহলে আমার প্রেমের প্রস্তাব সে প্রত্যাখান করেছে কেনো-? এই ভাবনা আমার ঘুম কেড়েছিলো; সোহানা তুমি এরকম করতে পারেনা মোটেও!

জানিনা কেনো কয়েকদিন পর সোহানা রাজী হয়েছিলো; মেয়েরা প্রেমের ব্যাপার নিয়ে যতটা সিরিয়স হয়ে চিন্তা করে বিয়ের ব্যাপারে ততটা সিরিয়স হয়ে চিন্তা করেনা; তাই বোধহয় সোহানা একটু সময় নিয়ে চিন্তা করেছিলো; যা-হোক অামাদের প্রেম শুরু হয়েছিলো!

প্রেমের কয়েকমাস পরেই সোহানা বলতেছে বিয়ের কথা; বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে তাকে; কয়েকদিন পর পর নতুন নতুন ছেলেপক্ষ দেখতে অাসে তাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে রিজেক্ট করে দেয় সবাইকে; কারণ তার মনে অামি অাছি; সে অামাকেই বিয়ে করবে কিন্তু পরিবারের বিপক্ষে গিয়ে সে বিয়ে করতে পারবে না; তাই আমি জিগ্যেস করলাম তার পরিবার কিরকম ছেলে চাচ্ছে তার জন্য; সোহানা বললো “টাকা ওয়ালা বড়লোক খুজতেছে অাম্মু” অামি মুসকি হেসে সোহানা’কে বলেছিলাম ” পরের বার কেউ দেখতে অাসলে বিয়েতে রাজী হয়ে যেও অামার বড়লোক হতে সময় লাগবে”

সেদিন সোহানা কিছু না বলেই চলে গেছিলো তারপর থেকে অার কথা হয়নি তার সাথে; শুনেছি বিয়ে হয়ে গেছে তার পরিবারের পছন্দ মতো ছেলে পেয়েছে দেখতে বর্তমান অমিতাভ বচ্চনের মতো হলেও বড়লোক অনেক; কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালান্স!

কয়েকদিন প্রচন্ড ডিপ্রেশনের মধ্যে অাছি; সব প্রেমিকার কথা মনে পড়তেছে একটু একটু ; নীলা-রূপা-তন্নি-জেমি-তমা-সোহানা সবার কথা; কিন্তু কেনো যেনো সবথেকে বেশি মনে পড়তেছে তন্নির কথা; তন্নি হয়তো অপেক্ষা করছে অামার জন্য; বাংলা ফিল্মের মতো তাকে খুঁজে বের করে বিয়ে করে নিয়ে অাসব তাকে; ছোটকালের প্রেম স্বার্থক করব এই অাশায়! কেমন জানি মনে হচ্ছে তন্নি এখনো ভালোবাসে অামাকে! অামার জন্য পথ চেয়ে বসে অাছে! কে জানে!

তন্নির বাবার সাথে নানুর ভালো সম্পর্ক; যোগাযোগ থাকবে অবশ্যই; একবার নানুর বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ নিতে পারলে তন্নির সম্পর্কে জানা যাবে; তন্নিকে ভীষণ ভালোবাসি সেওতো ভালোবাসে অামাকে; হয়তো সে অপেক্ষা করতেছে অামার জন্য; দেরী করা যাবেনা- কাল সকাল সকাল রওনা দিতে হবে নানুর বাড়ি!

একদম ভোর বেলা নানুর বাড়ি গিয়ে জানতে পারলাম তন্নির বিয়ের কথা; নানুদের সাথে যোগাযোগ করে তন্নির বাবা বিয়েতে ডেকেছে; না গেলে রাগ করবে বলেছে নাকি! জামাই ঢাকার নামকরা বিরাট পরিবারের একমাত্র ছেলে; প্রাইভেট হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে নাই’যে এরকম কিছুই নেই তার! তন্নিকে রাস্তায় এক দেখায় পছন্দ করে ফেলেছে অার সাথে সাথে প্রস্তাব; তন্নিও নাকি ভীষণ খুশি হয়েছে; তাহলে কি তন্নি রূপা-নীলা অন্যান্যদের মতোই আমাকে ভুলে গেছে-? তাহলে কি কেউ’ই আমাকে ভালোবাসলো না-? অাসলেই মেয়েরা কখনো মন থেকে ভালোবাসে না;

মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে খুব!
সামনের মাসের ১০তারিখ তন্নির বিয়ে!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button